ভাঙড়ই রাজ্যের মডেল, নির্বাচনী প্রচারে এসে ভাঙড়ের শস্য উৎপাদন নিয়ে একথাই বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি
দি নিউজ লায়ন; সোমবার ভাঙড়ের ভোজেরহাট খেলার মাঠে প্রার্থী রেজাউল করিমের সমর্থনে এই নির্বাচনি সভা হয়। সভার অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন অভিনেত্রী সায়ন্তিকা। বিকালে চারটে নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী সভা স্হলে এসে পৌছান।প্রথমেই তিনি ভাঙড় নিয়ে বক্তব্য শুরু করেন।শস্য উৎপাদনে ভাঙড় কে রাজ্যের মডেল বলে জানান।এখানে যা শস্য উদ্বোধন হয় সারা রাজ্যে তা হয় না।তাই পঁচিশ হাজার কোটি টাকা সমবায় কে দেওয়া হয়েছে।অনেক গুলো সমবায় তৈরি করে দেওয়া হয়েছে যাতে তারা ভালো ভাবে শস্য উৎপাদন করতে পারে।এদিন তাকে ভাঙড় ১ নাম্বার ব্লকের সমবায় সমিতি তাকে গামছা উপহার দেন।আপ্লুত মুখ্যমন্ত্রী ওই গামছা বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান।এদিন ভাঙড়ের প্রার্থী ডাক্তার রেজাউল করিম কে কেন করা হয়েছে তাও বিস্তারিত জানান মুখ্যমন্ত্রী। ভাঙড়ে একটি ভালো হাসপাতাল তৈরি করার ইচ্ছা রয়েছে তার।সেই দায়িত্ব প্রার্থী জিতলে তাকেই দিতে চান তিনি বলে জানান।
এদিন মঞ্চ থেকে বিজেপি কে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপি সম্প্রদায়িক ডাঙ্গা করে ওদের ভোট দেওয়া উচিত নয়। আমি বাংলার পাহারাদার।এখানে কোন রকম দাঙ্গা করতে দেব না।সারা দেশের মধ্যে একমাত্র আমার রাজ্যে এনপিআর করতে দেয়নি। অন্যান্ন রাজ্যে এনপিআর হয়েছে। আমি আছি বলে এ রাজ্যে হিন্দুরাও ভালো আছে মুসলিম রাও ভালো আছে।তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, ওরা রামকৃষ্ণের থেকেও বড় হয়ে গিয়েছে।ওরা ছদ্মবেশী শয়তান। তিনি আরও বলেন, ওই গুজরাটিরা বাংলা শাসন করবে? তা অতো সহজ নয়।আমি থাকতে হতে দিচ্ছি না।গুজরাটিরা যদি বাংলা শাসন করে তার আগে গলায় দড়ি দিয়ে মরে যাওয়া ভালো।
বিজেপির পাশাপাশি আইএসএফ তথা আব্বাস সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। আব্বাস সিদ্দিকীর নাম না করে তিনি বলেন,বিজেপির কাছ থেকে টাকা নিয়ে ধর্ম নিয়ে ভাগাভাগির করার চেষ্টা করছে।ছয় মাসের মধ্যে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছে।ও কাল কেউটে সাপের থেকেও ভয়ঙ্কর। ওকে ভোট দেওয়া মানে বিজেপি কে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া। যদিও মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, আমি ফুরফুরা শরীফ কে সম্মান করি।তিনি ত্বহা সিদ্দিকী আমাদের পক্ষে রয়েছে।
এর পাশাপাশি দলীয় কর্মী এবং মহিলাদের সতর্ক করেন।তিনি বলেন, ভোটের ৪৮ ঘন্টা আগে কিছু বাইরের পুলিশ ভয় দেখাবে।ভয় দেখালে ছবি তুলে রাখুন এবং হাতা খুনতি নিয়ে তৈরি থাকবেন তাদের একটু আদর করে দেবেন। এই সভায় আব্বাসের বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেন ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা নান্নু হোসেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সভায় অভিনেত্রী সায়ন্তিকা সহ উপস্থিত ছিলেন ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী ডাক্তার রেজাউল করিম,চিপ ইলেকশন এজেন্ট নান্নু হোসেন, আরাবুল ইসলাম,কাইজার আহমেদ, অহিদুল ইসলাম সহ অন্যান্ন নেতৃত্ব।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন ভাঙড়ের সভা শেষে শিলিগুড়ির উর্দ্দেশে রওনা দেন। এই সভায় জনতার ঢল নামে।

Post a Comment